কিশোর-কিশোরীদের জন্য ইন্টারনেট নিরাপত্তা।

 কিশোর-কিশোরীদের জন্য ইন্টারনেট নিরাপত্তা।


একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক যুগে ইন্টারনেট আমাদের জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের জন্য এটি যেন এক নতুন পৃথিবী। শিক্ষা, বিনোদন, যোগাযোগ থেকে শুরু করে নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য তারা এখন সম্পূর্ণভাবে অনলাইনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই বিশাল ভার্চুয়াল জগতের যেমন বহু ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অসংখ্য সাইবার ঝুঁকি ও অন্ধকার দিক।





বর্তমান সময়ে কিশোর-কিশোরীদের জন্য ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রয়োজন নয়, বরং এটি একটি বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই বিস্তারিত আর্টিকেলে আমরা কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন জগতের বিভিন্ন ঝুঁকি, তা থেকে নিরাপদ থাকার উপায় এবং অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করব

ইন্টারনেট নিরাপত্তা (Cyber Security) কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের যে রুলস গুলো মেনে চলা দরকার
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA)
সাইবার বুলিং বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে কী করবেন?
পাবলিক ওয়াই-ফাই (Public Wi-Fi) ব্যবহারের ঝুঁকি
অনলাইন গ্রুমিং এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে সাবধানতা
 সাইবার বুলিং বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে কী করবে?
ফিশিং স্ক্যাম এবং ক্ষতিকারক লিংক চেনার উপায়
সন্তানকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকা
উপসংহার

ইন্টারনেট নিরাপত্তা (Cyber Security) কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সহজ কথায়, ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় অনলাইন জগতের বিভিন্ন বিপদ, প্রতারণা এবং ক্ষতিকারক কনটেন্ট থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাই হলো ইন্টারনেট নিরাপত্তা বা সাইবার সিকিউরিটি।
কিশোর-কিশোরীদের জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা নিচে দেওয়া হলো:
  • ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা: অনলাইনে শেয়ার করা যেকোনো তথ্য হ্যাকারদের হাতে পড়তে পারে।
  • মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা: সাইবার বুলিং বা অনলাইন হেনস্থা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে।
  • ভবিষ্যতের নিরাপত্তা: অনলাইনে একবার কোনো নেতিবাচক তথ্য বা ছবি ছড়ালে তা চিরকাল থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা বা চাকুরির ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে।
 
নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের যে রুলস গুলো মেনে চলা দরকার
তুমি যদি একজন কিশোর বা কিশোরী হও, তবে অনলাইন দুনিয়ায় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে  নিয়ম অবশ্যই মেনে চলবে:
  • অপরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবে না: বাস্তবে যাকে চেনো না, ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে তাকে ফ্রেন্ড বানাবে না। স্ক্রিনের ওপারের মানুষটি যা দাবি করছে, সে তা নাও হতে পারে।
  • ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করো: তোমার স্কুলের নাম, বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর বা তুমি এখন কোথায় আছো (Live Location) কখনো পাবলিকলি পোস্ট করবে না।
  • লিংকে ক্লিক করার আগে ভাবো: কোনো মেসেজ বা ইমেইলে "ফ্রি উপহার" বা "অ্যাকাউন্ট ব্লকড" জাতীয় ভয় বা লোভ দেখালে সেই লিংকে ক্লিক করবে না।
  • ওয়েবক্যাম এবং ক্যামেরা ব্যবহারে সতর্ক হও: কথা বলা শেষ হলে ল্যাপটপের ক্যামেরা ঢেকে রাখো। অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত কারও সাথে ভিডিও কলে কথা বলার সময় সতর্ক থাকো।
  • পাইরেটেড সফটওয়্যার এড়িয়ে চলো: ফ্রি গেম বা সফটওয়্যার ক্র্যাক ডাউনলোড করতে গিয়ে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার বা র‍্যানসমওয়্যার ভাইরাস ঢুকে যেতে পারে। সর্বদা অফিশিয়াল স্টোর (Play Store/App Store) ব্যবহার করো।
  • ডিজিটাল দয়া বা এম্প্যাথি দেখাও: অনলাইনে কাউকে নিয়ে ট্রোল বা কটূক্তি করবে না। মনে রাখবে, কমেন্টের ওপাশেও একজন মানুষ আছে।
  • প্রাইভেসি সেটিংস চেক করো: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটক অ্যাকাউন্ট সর্বদা 'Private' বা 'Friends Only' করে রাখো।
  • লগআউট করতে ভুলো না: বন্ধু বা সাইবার ক্যাফের কম্পিউটারে নিজের অ্যাকাউন্ট লগইন করলে কাজ শেষে অবশ্যই লগআউট করবে।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA)
আপনার অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রথম ধাপ হলো একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। সহজ বা অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে হ্যাকাররা সহজেই আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারে।
  • শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের বৈশিষ্ট্য: পাসওয়ার্ডে অন্তত ৮-১২টি ক্যারেক্টার থাকতে হবে। এতে বড় হাতের অক্ষর (A-Z), ছোট হাতের অক্ষর (a-z), সংখ্যা (0-9) এবং বিশেষ চিহ্ন (@, #, $, %) এর মিশ্রণ থাকতে হবে। নিজের নাম, জন্মতারিখ বা "123456" এর মতো সহজ পাসওয়ার্ড একদম ব্যবহার করা যাবে না।
  • টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA): এটি হলো নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত স্তর। এটি চালু থাকলে পাসওয়ার্ড জানার পরও কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করতে পারবে না। কারণ লগইন করার সময় আপনার ফোনে একটি ওয়ান-টাইম কোড (OTP) আসবে, যা ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা অসম্ভব।
 সাইবার বুলিং বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে কী করবে?
যদি কখনো কোনো সাইবার অপরাধী বা ব্ল্যাকমেইলারের খপ্পরে পড়ো, তবে ভয় না পেয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নাও:
  • প্রমাণ রাখো: চ্যাট হিস্ট্রি, হুমকি বা আপত্তিকর পোস্টের স্ক্রিনশট (Screenshot) নিয়ে রাখো। এগুলো আইনি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
  • ব্লক এবং রিপোর্ট করো: অপরাধীকে তৎক্ষণাৎ ব্লক করো এবং ওই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করো।
  • অভিভাবককে জানাও: লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি লুকিয়ে রাখবে না। তোমার বাবা-মা বা শিক্ষককে খুলে বলো। তারা তোমাকে সাহায্য করতে পারবেন।
  • আইনি সহায়তা নাও: বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের শিকার হলে ৯৯৯ নম্বরে কল করতে পারো। এছাড়া সরকারের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন বা সিসিআইডি (CCID)-এর ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করে সাহায্য নেওয়া যায়।
 অনলাইন গ্রুমিং এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে সাবধানতা
অনলাইনে অনেক সময় অপরাধীরা ভুয়া বা ফেক প্রোফাইল তৈরি করে কিশোর-কিশোরীদের সাথে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে তারা বিশ্বাস অর্জন করে এবং পরে ব্ল্যাকমেইল বা ক্ষতি করার চেষ্টা করে। একে অনলাইন গ্রুমিং বলা হয়।
  • অপরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট: বাস্তবে আপনি যাকে চেনেন না, অনলাইনে তার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবেন না। প্রোফাইলে সুন্দর ছবি বা অনেক মিউচুয়াল ফ্রেন্ড থাকলেই সে ভালো মানুষ—এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
  • বাস্তবে দেখা না করা: অনলাইনের কোনো বন্ধুর সাথে বাবা-মাকে না জানিয়ে কখনোই বাস্তবে দেখা করতে যাবেন না। কোনো বন্ধু যদি আপনার কাছ থেকে গোপন ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য চায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ব্লক করে দিন।
আরো পড়ুনঃ নেভিগেশন পরিচালনার জন্য জন্য প্রস্তাবিত সরঞ্জাম
প্রধান সহ বলা যেতে পারে অ্যান্ড্রয়েডের ফোনের জন্যSecure Kids একটি চমৎকার অ্যাপ, কারণ এটি আপনাকে স্ক্রিন টাইমআউট নির্ধারণ করতে এবং কল ব্লক করতে দেয়। যারা আরও বিস্তারিত কিছু খুঁজছেন, তাদের জন্য Qustodio একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প, কারণ এটি সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ এবং স্ক্রিন টাইম সম্পর্কে বিশদ প্রতিবেদন প্রদান করে। এছাড়াওউইন্ডোজ লাইভ ফ্যামিলি সেফটি আগে থেকেই ইন্টিগ্রেটেড থাকে এবং এটি আপনাকে ওয়েবসাইটগুলোর ব্ল্যাকলিস্ট তৈরি করার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, ফ্যামিলি টাইম খুবই বহুমুখী, যা আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড এবং কিন্ডলে কাজ করে এবং এতে অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য একটি জরুরি ফিচার রয়েছে। 
ফিশিং স্ক্যাম এবং ক্ষতিকারক লিংক চেনার উপায়
"আপনি লটারি জিতেছেন" বা "বিনামূল্যে গেমের ডায়মন্ড বা কয়েন পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন"—এই ধরনের লোভনীয় মেসেজ বা ইমেইল পাঠিয়ে হ্যাকাররা তথ্য চুরি করে। একে ফিশিং (Phishing) বলা হয়।
  • লিংক যাচাই করুন: যেকোনো অজানা উৎস থেকে আসা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে যদি কোনো লিংকে আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে বলা হয়, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই একটি ভুয়া লিংক।
  • অফিসিয়াল সোর্স ব্যবহার করুন: কোনো অ্যাপ বা গেম ডাউনলোড করতে হলে সবসময় গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের মতো নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহার করুন। থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড করলে ডিভাইসে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার ঢুকতে পারে।
সন্তানকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকা
ইন্টারনেট নিরাপত্তা শুধু কিশোর-কিশোরীদের একার দায়িত্ব নয়। অভিভাবকদের এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।
  • বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন: সন্তানকে এমন পরিবেশ দিন যাতে সে কোনো সমস্যায় পড়লে নির্দ্বিধায় আপনার কাছে এসে বলতে পারে। বকাঝকা করলে তারা তথ্য লুকিয়ে ফেলবে।
  • স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করুন: রাতে ঘুমানোর সময় শোবার ঘরে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার নিষিদ্ধ করুন। বসার ঘরের মতো উন্মুক্ত স্থানে কম্পিউটার রাখুন।
  • প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (Parental Control) অ্যাপ ব্যবহার করুন: Google Family Link বা অন্যান্য থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করে সন্তানের অনলাইন অ্যাক্টিভিটি এবং স্ক্রিন টাইম মনিটর করতে পারেন।
  • ডিজিটাল লিটারেসি শেখান: প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এর ভালো ও মন্দ দিকগুলো নিয়ে সন্তানের সাথে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা করুন।
আরো পড়ুনঃ অপারেটিং সিস্টেমের অনুযায়ী নেটিভ কনফিগারেশন

সবসময় এক্সটার্নাল প্রোগ্রাম ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না, কারণ বর্তমান সিস্টেমগুলোতে খুবই দরকারি অপশন রয়েছে। উইন্ডোজে সময়সীমা সহ চাইল্ড অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যায়, অন্যদিকে আইওএস- এ নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্লক করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েডের জগতে, দূর থেকে ডিভাইস মনিটর করা এবং অ্যাপের পারমিশন ম্যানেজ করার জন্য গুগলের ফ্যামিলি লিংক হলো সেরা টুল। রাউটারেরপ্যারেন্টাল কন্ট্রোলস অপশন ব্যবহার করে , আপনি ঠিক করতে পারেন কোন ডিভাইসগুলো নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবে এবং ঠিক কোন সময়ে, এমনকি ঘুম বা পড়াশোনার সময় ইন্টারনেট পুরোপুরি ব্লক করে দিতে পারেন।


 পাবলিক ওয়াই-ফাই (Public Wi-Fi) ব্যবহারের ঝুঁকি
রেস্টুরেন্ট, পার্ক বা শপিং মলে ফ্রি পাবলিক ওয়াই-ফাই দেখলে আমরা অনেকেই আনন্দের সাথে কানেক্ট করি। কিন্তু এই ফ্রি ওয়াই-ফাই আপনার জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
  • ঝুঁকি সমূহ: পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত সুরক্ষিত থাকে না। একই নেটওয়ার্কে থাকা কোনো হ্যাকার সহজেই আপনার ফোনের ডেটা, পাসওয়ার্ড বা চ্যাট হিস্ট্রি দেখে নিতে পারে।
  • সতর্কতা: পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় কখনোই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, অনলাইন শপিং বা অত্যন্ত সংবেদনশীল কোনো অ্যাকাউন্টে লগইন করবেন না। একান্তই ব্যবহার করতে হলে একটি ভালো মানের VPN (Virtual Private Network) ব্যবহার করুন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্রাইভেসি সেটিংসের সঠিক ব্যবহার
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
  • প্রোফাইল লক বা প্রাইভেট রাখা: আপনার প্রোফাইল সবসময় 'প্রাইভেট' বা 'লক' করে রাখুন। এর ফলে কেবল আপনার পরিচিত বন্ধুরাই আপনার পোস্ট, ছবি এবং তথ্য দেখতে পাবে।
  • ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা: অনলাইনে কখনোই আপনার বাসার ঠিকানা, স্কুলের নাম, ফোন নম্বর বা আপনি এই মুহূর্তে কোথায় আছেন (লাইভ লোকেশন) তা শেয়ার করবেন না। অপরাধীরা এই তথ্যের সুযোগ নিয়ে আপনার ক্ষতি করতে পারে।

ফিশিং স্ক্যাম এবং ক্ষতিকারক লিংক চেনার উপায়
"আপনি লটারি জিতেছেন" বা "বিনামূল্যে গেমের ডায়মন্ড বা কয়েন পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন"—এই ধরনের লোভনীয় মেসেজ বা ইমেইল পাঠিয়ে হ্যাকাররা তথ্য চুরি করে। একে ফিশিং (Phishing) বলা হয়।
  • লিংক যাচাই করুন: যেকোনো অজানা উৎস থেকে আসা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে যদি কোনো লিংকে আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে বলা হয়, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই একটি ভুয়া লিংক।
  • অফিসিয়াল সোর্স ব্যবহার করুন: কোনো অ্যাপ বা গেম ডাউনলোড করতে হলে সবসময় গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের মতো নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহার করুন। থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড করলে ডিভাইসে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার ঢুকতে পারে
আরো পড়ুনঃ সফটওয়্যার এর বাইরে শিক্ষা ও বিশ্বাস
  • কোনো ব্লকিং সফটওয়্যারই শতভাগ কার্যকর নয়। আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো খোলামেলা যোগাযোগ। আমাদের অবশ্যই পারিবারিক বোঝাপড়া ও সুস্পষ্ট নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং বাড়ির সাধারণ ব্যবহারের জায়গাগুলোতে কম্পিউটার রাখতে হবে, যাতে তদারকি স্বাভাবিক হয় এবং তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন বলে মনে না হয়। সর্বোত্তম উপায়।অনলাইনে শিশুদের বিশেষ করে 12 বছর বয়স থেকে সন্তানের ব্যক্তিগতবার্তা সহ তার সম্মতি অপরিহার্য পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য নজরদারি সফটওয়্যার, ডিভাইসের গোপনীয়তা সেটিংস এবং সর্বোপরি, ধারাবাহিক ও মূল্যবোধ-ভিত্তিক দিকনির্দেশনার সমন্বয় প্রয়োজন। দায়িত্বশীল শিক্ষার সাথে কন্টেন্ট ফিল্টার ও সময়সীমা যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে, প্রযুক্তি তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি না হয়ে, বরং তাদের বিকাশের সহায়ক হয়ে উঠবে।

মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ
ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার বা আসক্তি কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ক্ষতি, অনিদ্রা এবং বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে।
  • স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ: প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময় বা স্ক্রিন টাইম (Screen Time) বেঁধে নিন। পড়াশোনা এবং সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি মাঠের খেলাধুলা ও পরিবারের সাথে সময় কাটানো জরুরি।
  • বাস্তব জীবনকে প্রাধান্য দিন: অনলাইনের লাইক, কমেন্ট বা ভার্চুয়াল জীবনই সবকিছু নয়। বাস্তব জীবনের সম্পর্ক এবং নিজের শখগুলোকে (যেমন: বই পড়া, ছবি আঁকা, সাইক্লিং) সময় দিন।
উপসংহার
ইন্টারনেট হলো জ্ঞানের একটি বিশাল ভাণ্ডার। একে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করাই হলো আসল বুদ্ধিমত্তা। কিশোর-কিশোরীদের জন্য ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল প্রযুক্তিগত সতর্কতাই যথেষ্ট নয়, বরং নিজেদের সাধারণ জ্ঞান এবং সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি মধুমিতা আইটির নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন ।প্রতিটি কমেন্ট গুরুতসহকারে পর্যালোচনা করা হয়।

comment url
Md. Atiqur Rahman
Md. Atiqur Rahman
আমি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান শাকিল। পড়াশোনা করেছি নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং বিভাগে (বিবিএ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-র হিউম্যান রিসোর্স বিভাগে (এমবিএ) এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে (মাস্টার্স)।আমার উদ্যোগে গঠিত "মধুমতি আইটি"-র প্রধান লক্ষ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করা। উন্নত মানের আইটি সেবা, ডিজিটাল মার্কেটিং পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি আমরা তরুণদের আইটি দক্ষতা বাড়াতে কাজ করছি। এর পাশাপাশি, আমাদের আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হলো কোনো জটিল গ্রামার ছাড়াই বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য সহজ স্ট্রাকচারের মাধ্যমে অ্যাডভান্সড ইংরেজি লেখা ও বলার দারুণ সব কনটেন্ট তৈরি করা। এছাড়াও মধুমিতা এগ্রো প্রজেক্ট নিয়েও আমাদের কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। ।