বাংলাদেশ অনলাইন মার্কেটপ্লেস

বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সম্ভাবনাময় খাত হলো ই-কমার্স। প্রযুক্তির বিকাশ এবং মানুষের ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে কেনাকাটার ধারণায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই ই-কমার্স বিপ্লবের প্রাণকেন্দ্র হলো অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো। নিচে  হিসেবে পরিচিত প্ল্যাটফর্মগুলোর বিস্তারিত বিবরণ, তাদের কার্যপদ্ধতি, অবদান এবং বর্তমান বাজারের রূপরেখা তুলে ধরা হলো।



বাংলাদেশের শীর্ষ অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ চাল ডাল রকমারি ডট কম সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়



সূচিপত্রঃ

বাংলাদেশে অনলাইন মার্কেটসমূহ ভূমিকা

বাংলাদেশের অনলাইন মার্কেটপ্লেস: বিবর্তন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

অনলাইন মার্কেটপ্লেস কী?

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসসমূহ

কেন এই মার্কেটপ্লেসগুলো এত জনপ্রিয়?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনলাইন মার্কেটপ্লেসের প্রভাব।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায় ।

উদ্যোক্তা হিসেবে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার ধাপসমূহ

উপসংহার।



বাংলাদেশে অনলাইন মার্কেটসমূহ ভূমিকা

প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও প্রসারের ফলে অনলাইন মার্কেটপ্লেস সমূহ বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেট , স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রচার ও প্রসারের ফলে পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে ।সেবা চালডাল, দারাজ এবং রকমারির মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ঘরে বসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুবিধা করে দিচ্ছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর কেবল ক্রেতাদের জীবনকেই সহজ করেনি, বরং হাজার হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার কর্মসংস্থানের এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে।


বাংলাদেশের অনলাইন মার্কেটপ্লেস: বিবর্তন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

কবিংশ শতাব্দীর এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ এক অভাবনীয় ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামোতে যে খাতটি সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হয়েছে, তা হলো ই-কমার্স বা অনলাইন মার্কেটপ্লেস। একসময় মানুষ কেনাকাটার জন্য ঐতিহ্যবাহী কাঁচাবাজার, শপিং মল বা ব্র্যান্ডের শোরুমের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা মানুষের লাইফস্টাইল আমূল বদলে দিয়েছে। এখন ঘরে বসেই এক ক্লিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল-ডাল থেকে শুরু করে দামি ইলেকট্রনিক্স পণ্য, পোশাক ও গ্যাজেট দোরগোড়ায় চলে আসছে। এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশের বড় বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো।

 অনলাইন মার্কেটপ্লেস কী?

সহজ কথায়, অনলাইন মার্কেটপ্লেস হলো এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ওয়েবসাইট, যেখানে অসংখ্য বিক্রেতা (Vendors) তাদের পণ্য বা সেবা প্রদর্শন করেন এবং ক্রেতারা (Customers) সরাসরি সেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তা কিনেন। এটি একটি ভার্চুয়াল শপিং মল, যেখানে মার্কেটপ্লেস কর্তৃপক্ষ নিজে সব পণ্য উৎপাদন বা সরবরাহ করে না; বরং তারা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম বা সেতু হিসেবে কাজ করে।


বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসসমূহ

বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি বড় বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস দেশজুড়ে সেবা দিচ্ছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম হলো:
দারাজ বাংলাদেশ (Daraz Bangladesh)
বাংলাদেশে অনলাইন মার্কেটপ্লেসের কথা বললে সবার আগে যে নামটি আসে তা হলো দারাজ। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিশ্বখ্যাত আলিবাবা গ্রুপের মালিকানায় যাওয়া দারাজ বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস।
  • পণ্যের বৈচিত্র্য: ইলেকট্রনিক্স, গ্যাজেটস, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি মাল (গ্রোসারি) পর্যন্ত লাখ লাখ পণ্য এখানে পাওয়া যায়।
  • ভোক্তা সংযোগ: দেশের ৬৪টি জেলাতেই দারাজের ডেলিভারি নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। আলিবাবার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে তাদের অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট অত্যন্ত ইউজার-ফ্রেন্ডলি।
  • ক্যাম্পেইন ও অফার: ‘১১.১১’ (ইলেভেন-ইলেভেন), ‘১২.১২’ বা ঈদ শপিংয়ের মতো বড় বড় ক্যাম্পেইনে দারাজ কোটি কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করে।
চালডাল ডটকম (Chaldal.com)
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা গ্রোসারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং নির্ভরযোগ্য অনলাইন মার্কেটপ্লেস হলো চালডাল। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোরের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয়।
  • দ্রুত ডেলিভারি: চালডালের নিজস্ব ওয়্যারহাউজ বা ‘ডার্ক স্টোর’ নেটওয়ার্কের কারণে ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়।
  • পণ্য সরবরাহ: তাজা শাকসবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে ডায়াপার কিংবা রান্নার মসলা—সবকিছুই এক ছাদের নিচে পাওয়া যায়।
রকমারি ডটকম (Rokomari.com)
বই এবং শিক্ষণীয় সামগ্রীর জন্য রকমারি ডটকম বাংলাদেশের একক বৃহত্তম অনলাইন মার্কেটপ্লেস। ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের বইপ্রেমীদের কেনাকাটার অভ্যাস পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
  • বইয়ের বিশাল সংগ্রহ: দেশী-বিদেশী যেকোনো লেখকের বই, একাডেমিক গাইড বা ধর্মীয় বইয়ের জন্য এটি প্রথম পছন্দ।
  • অন্যান্য পণ্য: বর্তমানে বইয়ের পাশাপাশি তারা স্টেশনারি, ইলেকট্রনিক্স ও টিউটোরিয়াল সামগ্রীও বিক্রি করছে।
অন্যান্য উদীয়মান প্ল্যাটফর্ম
এছাড়াও পিকাবু (Pickaboo), প্রিয়শপ (PriyoShop), এবং ফুডপান্ডা (Foodpanda - ফুড ও গ্রোসারি ডেলিভারির জন্য) দেশের অনলাইন কেনাকাটার বাজারে বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা বা এফ-কমার্স (F-Commerce) দেশের একটি বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SMEs) বড় ভিত্তি।

 কেন এই মার্কেটপ্লেসগুলো এত জনপ্রিয়?

বাংলাদেশের অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
  • সময়ের সাশ্রয় ও সুবিধা: তীব্র যানজটের শহরগুলোতে ঘরে বসে এক ক্লিকে কেনাকাটা করার সুবিধা মানুষকে অনলাইনের প্রতি আকৃষ্ট করেছে।
  • ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD): বাংলাদেশে ই-কমার্সের প্রসারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে 'ক্যাশ অন ডেলিভারি' বা পণ্য হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা। এটি ক্রেতাদের মনে বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করেছে।
  • মূল্য ছাড় এবং অফার: অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো প্রায়শই ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্ট ভাউচার এবং ফ্রি ডেলিভারির মতো আকর্ষণীয় অফার দিয়ে থাকে, যা সাধারণ বাজারের চেয়ে সাশ্রয়ী।
  • পেমেন্ট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) এবং ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের সহজলভ্যতা পেমেন্ট প্রক্রিয়াকে অনেক নিরাপদ ও সহজ করেছে। 


 বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনলাইন মার্কেটপ্লেসের প্রভাব

  • অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো কেবল কেনাকাটার মাধ্যমই নয়, এটি দেশের অর্থনীতিতে একটি বিশাল পরিবর্তন আনছে।
    • কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এই খাতটি লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। আইটি বিশেষজ্ঞ, ডিজিটাল মার্কেটার, কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি থেকে শুরু করে হাজার হাজার ডেলিভারি রাইডার বা ‘ডেলিভারি হিরো’র কর্মসংস্থান হচ্ছে এর মাধ্যমে।
    • ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন: দারাজ বা প্রিয়শপের মতো মার্কেটপ্লেসগুলোতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও তাঁর পণ্য পুরো দেশের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমছে।
    • ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ রূপান্তর: অনলাইন লেনদেন বৃদ্ধির ফলে দেশ ক্যাশলেস সোসাইটি বা ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।৪. বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়
      দ্রুত প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে:
      • গ্রাহকের আস্থার সংকট: অতীতে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রাহকদের মনে এখনো কিছুটা ভীতি কাজ করে।
      • লজিস্টিকস ও ডেলিভারি সমস্যা: ঢাকার বাইরে বা গ্রামীণ এলাকায় সঠিক সময়ে এবং অক্ষত অবস্থায় পণ্য পৌঁছানো এখনো বেশ ব্যয়বহুল এবং চ্যালেঞ্জিং।
      • পণ্য প্রদর্শনী ও বাস্তবতার অমিল: ছবিতে দেখানো পণ্যের সাথে বাস্তব পণ্যের মানের অমিল নিয়ে অনেক ক্রেতাই অভিযোগ করে থাকেন।
      সমাধানের উপায়:
      সরকার বর্তমানে 'ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকা' এবং 'সেন্ট্রাল লজিস্টিকস ট্র্যাকিং' ব্যবস্থার মাধ্যমে এই খাতকে নিয়মের মধ্যে আনার কাজ করছে। মার্কেটপ্লেসগুলোর উচিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ (Quality Control) আরো কঠোর করা এবং রিটার্ন পলিসি সহজ করা।

    . বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়

    দ্রুত প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে:
    • গ্রাহকের আস্থার সংকট: অতীতে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রাহকদের মনে এখনো কিছুটা ভীতি কাজ করে।
    • লজিস্টিকস ও ডেলিভারি সমস্যা: ঢাকার বাইরে বা গ্রামীণ এলাকায় সঠিক সময়ে এবং অক্ষত অবস্থায় পণ্য পৌঁছানো এখনো বেশ ব্যয়বহুল এবং চ্যালেঞ্জিং।
    • পণ্য প্রদর্শনী ও বাস্তবতার অমিল: ছবিতে দেখানো পণ্যের সাথে বাস্তব পণ্যের মানের অমিল নিয়ে অনেক ক্রেতাই অভিযোগ করে থাকেন।
    সমাধানের উপায়:
    সরকার বর্তমানে 'ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকা' এবং 'সেন্ট্রাল লজিস্টিকস ট্র্যাকিং' ব্যবস্থার মাধ্যমে এই খাতকে নিয়মের মধ্যে আনার কাজ করছে। মার্কেটপ্লেসগুলোর উচিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ (Quality Control) আরো কঠোর করা এবং রিটার্ন পলিসি সহজ করা।


আরো পড়ুনঃবর্তমানে বাংলাদেশি ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকছেন পোশাক ও ফ্যাশন পণ্যের দিকে,


যার মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, জুতা ও কসমেটিকস। এর পরেই রয়েছে স্মার্টফোন, গ্যাজেট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী।
এছাড়াও, দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে চাল, ডাল, তেলসহ মুদি পণ্য (গ্রোসারি) এবং তরতাজা খাবার অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই অর্ডার করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি গৃহস্থালির টুকিটাকি জিনিসপত্র, বই এবং রূপচর্চার প্রসাধন সামগ্রীও মানুষ এখন নিয়মিত অনলাইন থেকে কিনছেন। মূলত সময় বাঁচাতে, ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা পাওয়ায় এবং আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টের কারণে মানুষ অনলাইনের দিকে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
  • অনলাইন কেনাকাটার বিষয়ে আপনি কি আরও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চান? যেমন:
শীর্ষস্থানীয় অনলাইন শপ বা ই-কমার্স সাইটগুলোর নাম
ক্রেতাদের সবচেয়ে পছন্দের পেমেন্ট পদ্ধতি (যেমন: বিকাশ, নগদ, ক্যাশ অন ডেলিভারি)
কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের বাজার চাহিদা



আরো পড়ুনঃঅনলাইন কেনাকাটা নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি
  • ওয়েবসাইটের নির্ভরযোগ্যতা: শুধুমাত্র বিশ্বস্ত ও সুপরিচিত ই-কমার্স সাইট বা ভেরিফাইড পেজ থেকে কেনাকাটা করুন। ইউআরএল-এ 'https://' এবং প্যাডলক  চিহ্ন দেখে নিন।
  • পণ্য ও বিক্রেতার রিভিউ: পণ্যটি কেনার আগে আগের ক্রেতাদের দেওয়া রিভিউ এবং রেটিং দেখে এর গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
  • রিটার্ন ও রিফান্ড পলিসি: পণ্য পছন্দ না হলে বা নষ্ট থাকলে তা ফেরত দেওয়ার বা টাকা ফেরত পাওয়ার নিয়মাবলী আগে থেকেই জেনে নিন।
  • মূল্য ও ডেলিভারি চার্জ: পণ্যের আসল দামের সাথে ডেলিভারি চার্জ বা অতিরিক্ত কোনো ভ্যাট যুক্ত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করুন।
  • নিরাপদ পেমেন্ট: ক্যাশ অন ডেলিভারি (পণ্য হাতে পেয়ে টাকা দেওয়া) সবচেয়ে নিরাপদ। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে ওটিপি (OTP) ও পিন নম্বর সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।
অনলাইন কেনাকাটার বিষয়ে আপনার কি নির্দিষ্ট কোনো পণ্য (যেমন: ইলেকট্রনিক্স বা পোশাক) বা কোনো বিশেষ প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জানার আছে? জানালে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারি।


আরো পড়ুনঃঅনলাইন থেকে নিরাপদ কেনাকাটার জন্য এই জরুরি সতর্কতাগুলো মেনে চলুন:
  • নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট: সর্বদা সুপরিচিত এবং বিশ্বস্ত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম বা ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করুন। ওয়েবসাইটের ইউআরএল-এর শুরুতে 'https://' এবং লক (প্যাডলক) আইকন আছে কিনা দেখে নিন।
  • রিভিউ যাচাই: পণ্য কেনার আগে অন্যান্য ক্রেতাদের রিভিউ ও রেটিং ভালোভাবে পড়ে নিন।
  • সুরক্ষিত পেমেন্ট: ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য সরাসরি সংরক্ষণের চেয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারি (পণ্য পেয়ে মূল্য পরিশোধ) অথবা নিরাপদ গেটওয়ে (যেমন: বিকাশ, রকেট) ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ।
  • লোভনীয় অফার: অতিরিক্ত সস্তা বা অবিশ্বাস্য অফার থেকে দূরে থাকুন, এগুলো সাধারণত প্রতারণামূলক হয়।
  • ব্যক্তিগত তথ্য: কেনাকাটার সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত বা গোপনীয় তথ্য শেয়ার করবেন না।

উদ্যোক্তা হিসেবে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার ধাপসমূহ

  • পণ্য নির্বাচন: বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত ও বিক্রয়যোগ্য পণ্য বা সেবা নির্ধারণ করুন।
  • মার্কেট গবেষণা: ক্রেতার চাহিদা ও প্রতিযোগীদের কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিন।
  • প্ল্যাটফর্ম তৈরি: ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম কিংবা নিজস্ব ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার অনলাইন উপস্থিতি নিশ্চিত করুন।
  • ডিজিটাল মার্কেটিং: আকর্ষণীয় ছবি, ভিডিও ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সঠিক ক্রেতার কাছে পৌঁছান।
  • গ্রাহক সেবা ও ডেলিভারি: দ্রুত পণ্য সরবরাহ এবং আস্থার সম্পর্ক তৈরি করুন।
  • আইনি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা: ট্রেড লাইসেন্স ও হিসাব সংরক্ষণের মাধ্যমে ব্যবসাটি দীর্ঘস্থায়ী করুন।



উপসংহার
বাংলাদেশের অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। উন্নত ইন্টারনেট সেবা এবং স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে এই বাজারের পরিধি প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে। লজিস্টিকস অবকাঠামোর আরো উন্নয়ন এবং ক্রেতাদের শতভাগ আস্থা অর্জন করা সম্ভব হলে, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো দেশের জিডিপিতে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি মধুমিতা আইটির নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন ।প্রতিটি কমেন্ট গুরুতসহকারে পর্যালোচনা করা হয়।

comment url
Md. Atiqur Rahman
Md. Atiqur Rahman
আমি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান শাকিল। পড়াশোনা করেছি নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং বিভাগে (বিবিএ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-র হিউম্যান রিসোর্স বিভাগে (এমবিএ) এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে (মাস্টার্স)।আমার উদ্যোগে গঠিত "মধুমতি আইটি"-র প্রধান লক্ষ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করা। উন্নত মানের আইটি সেবা, ডিজিটাল মার্কেটিং পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি আমরা তরুণদের আইটি দক্ষতা বাড়াতে কাজ করছি। এর পাশাপাশি, আমাদের আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হলো কোনো জটিল গ্রামার ছাড়াই বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য সহজ স্ট্রাকচারের মাধ্যমে অ্যাডভান্সড ইংরেজি লেখা ও বলার দারুণ সব কনটেন্ট তৈরি করা। এছাড়াও মধুমিতা এগ্রো প্রজেক্ট নিয়েও আমাদের কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। ।